যে দেখে সেই অবাক হয়, রান্না করার পাত্র বা ডেগ যে এতো বিশাল আকৃতির হতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। দেখতে ছোটখাট একটা কারখানার মত, তার উপর বসানো হয়েছে বিশাল আকৃতির ডেগ, তবে সেই ডেগে রান্না করতে বাবুর্চি হয় মই বেয়ে উপরে উঠতে হবে নতুবা উচুঁ কোন কিছুর উপরে উঠতে হবে।
এখানেই শেষ নয়, সেই ডেগে রান্না করতে বানানো হয়েছে মোটর চালিত যন্ত্র, ডেগটিতে রান্না করতে তৈরি করা হয়েছে ১২ হাজার ইটের তৈরি বিশেষ ধরনের চুলার। তুলার জ্বাল দেওয়ার মুখটি দেখ‌তে এক‌টি সুর‌ঙ্গের ম‌তো। অাবার ডে‌গের তুলার পা‌শে বাশ দি‌য়ে দেওয়া হ‌চ্ছে নিরাপত্তা বেড়া। একটি ডেগ নিয়ে এতো সব আয়োজন।




বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ তৈরি হয়েছে মানিকগঞ্জে। যাতে রান্না করা যাবে ১০১ মণ খাবার। ২৭ অাগস্ট ও ২৮ অাগস্ট জৌনপুরী খলিফা শাহ সূফি হযরত মাওলানা মরহুম মাগফুর এখলাছ উদ্দীন কু: (রহ.) এর প্রতিষ্ঠিত ৯৯ তম বাৎসরিক ওরশ শরিফে মানিকগঞ্জের ঘিওরের জাবরা ইমামবাড়ি দরবার শরিফে প্রথমবারের মতো রান্না হবে এ ডেগটিতে।

এর ২ বছর অা‌গে ওর‌শের সময় ডেগ‌টি‌তে রান্না করার চেষ্টা করা হ‌য়ে ছিল কিন্তু চুলা তৈ‌রি না হওয়ায় তা সম্ভব হয়‌নি। এখন থে‌কে প্রতি বছর শুধুমাত্র ওরশে রান্না করতে তৈরি করা হয়েছে এত বড় ডেগটি। ডেগ তৈরি শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন শত শত মানুষ ডেগটি দেখতে আসছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এ ডেগটি তৈরি করতে যে টাকা খরচ হয়েছে তা দিয়েছে দরবারের ওরশ কমিটি, ভক্ত ও সাধারন জনগন। দুইজন মিস্ত্রী ৩ মাস ধরে তৈরি করেছে এ বিশাল আকৃতির ডেগ।

জাবরা ইমাম বাড়ি দরবার শরিফের ওরশ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম জানায়, এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ। ডেগটির উচ্চতা সাড়ে ছয় ফুট। এর মুখের চারপাশের আয়তন ছয় ফুট দুই ইঞ্চি। আর মাঝামাঝি চারপাশের আয়তন সাত ফিট।

ডেক এর ওপর দিকে মাঝ বরাবর চারকোণে চার পাশে রিং রয়েছে। যার প্রতিটির ওজন প্রায় চার কেজি করে। ডেকটি স্থানান্তর করার সময় এই রিং এর ভেতর বাঁশ জাতীয় কোনো কিছু দিয়ে ধরে সরাতে হয়। ডেকটি স্থানান্তরে পূর্ণবয়ষ্ক ৪০ থেকে ৪৫ জন লোক লাগে। প্রতিদিন ডেগটি দেখতে শত শত মানুষ আসে।

জানা গে‌ছে, ডেগটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। ডেগ তৈরি করতে মিস্ত্রী আনা হয়েছে ঢাকা থেকে। দুইজন মিস্ত্রীর এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় তিন মাসের মতো। ডেগটি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছে পাঁচ মিলি স্টিলের ১১৩ কেজি করে ওজনের পাঁচটি সিট, ঝালা দিতে লেগেছে ২০ কেজি রড, ডেগটির কানধিতে ব্যবহৃত হয়েছে ১৮ কেজির স্টিল, আর ডেগটির চার কোণে ১৬ কেজি কয়রা লাগানো রয়েছে। অার ডে‌গের জন্য তুলা তৈরি করতে লে‌গে‌ছে প্রায় ১২ হাজার ইট। তুল‌া তৈ‌রি‌তে সময় লে‌গে‌ছে ৪ মাস।

ওরশ কমিটির সভাপতি ওরশ কমিটির সভাপতি মো: রাজা মিয়া জানায়, ডেকটি তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র ওরশের সময় তবারক রান্না করতে। ডেগটিতে ওরশের সময় খিচুড়ি রান্না করা হবে।

জাবরা ইমাম বাড়ি দরবার শরিফের পীর সাহেব হযরত মাওলানা খাজা আবুল কালাম আজাদ চিশতি জানান, আধ্মাতিকভাবে ধ্যান করার সময় তিনি এ রকম একটি বড় ডেগ তৈরির নির্দেশনা পান।

পরে ভারত উপমহাদেশের আওলিয়া খাজা মইনুদ্দিন হাসান চিশতির মাজার শরিফের খাদেম হজরত খাজা আহম্মেদ আলী চিশতির নিদের্শক্রমে এই ডেগ তৈরি করা হয়। এ ডে‌গে একবার রান্না করা খাবার ৫ হাজার লোক খে‌তে পার‌বে। এটি বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ। এত বড় ডেগ আর বাংলাদেশে নেই।