গত কিছুদিন ধরে নেট জগতে ভা’ইরাল হয়ে চলমান আছে একটি গান যার শিরোনাম হলো ’মানিক মাগে হিতে’। সকল ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও শেয়ারিং অংশে এই গানটি শেয়ার হচ্ছে লক্ষ লক্ষ বার এবং দেখা হচ্ছে কোটি কোটি বার। আপনি যদি নেট দুনিয়ার দিকে তাকান, তাহলে দেখতে পারবেন একটি মিষ্টি চেহারার তরুণী মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বেশ আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে গান গাইছে। তিনি তার গভীর দৃষ্টি এবং মন ভোলানো হাসি দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিমোহিত করেছেন। সিংহলী ভাষার গানের তামিল, মালয় এবং বাংলা সংস্করণ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে।
গায়কীর নাম জোহান ডি সিলভা। বয়স মাত্র ১৮ বছর। এই বয়সে ইয়োহানি তার প্রতিভা দেখিয়েছেন। শিল্পী জানেন যে ’মানিক মাগে হিতে’ গানটি বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয় হয়েছে। একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে ইয়োহানি বলেন, সুযোগ পেলে তিনি বাংলাদেশে আসতে চান।

জানা গেছে, ইয়োহানি এর আগেও একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাবা-মায়ের সঙ্গে খুব অল্প বয়সে সে সফর দিয়েছিলেন তিনি। সে প্রসঙ্গে ইয়োহানি বলেন, ’বাংলাদেশে আমি যখন গিয়েছিলাম, তখন আমি এতোটাই ছোট ছিলাম যে, সেই স্মৃতি মনে করতে পারছি না। সে সময়ের কথা আমার খুব বেশি মনে নেই। তবে আমি আবারও বাংলাদেশে যেতে চাই। যত শিগগিরই সম্ভব যেতে চাই। বলতে পারেন আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে যেতে চাই।’

বাংলা গানের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে শ্রীলংকান এই তরুণী বলেন, ’আমি আসলে নতুন কিছু করতে ভালোবাসি। যদি আমি বাংলা ভাষা শিখতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমি বাংলায় গান গাইবো।’ বাংলাদেশি শ্রোতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ’আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং তাদের কাছে কৃতজ্ঞ যারা আমার মিউজিক ভিডিও দেখেছেন এবং গানটি শুনেছেন। এটা অসাধারণ এক অনুভূতি। আশা করবো আমার পরের গানগুলো আপনাদের ভালো লাগবে। সাব’ধানে থাকবেন। সেটাই সবচেয়ে বড় চাওয়া।’

শ্রীলংকায় দারুণ জনপ্রিয় ইয়োহানি। সেখানে নিয়মিত স্টেজ শো করেন। তিনি নিজেই গান লেখেন, সুর করেন। অনেক আগে থেকেই তিনি ইউটিউবে বেশ জনপ্রিয়। এর আগে তার গাওয়া আরেকটি গান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাই’রাল হয়েছিল। ’মানিকে মাগে হিতে’ গানটি এবার তাকে ভারত, বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা এনে দিল। শ্রীলংকায় এখন তাকে ’র‍্যা’প প্রিন্সেস’ বলা হচ্ছে।

ইয়োহানি শুধু গান করেন না পাশাপাশি আছে একটি বাদ্যযন্ত্রের ব্যবসাও। তিনি বিদেশ থেকে নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র আমদানি করেন এবং পরে সেগুলো নিজের দেশে বিক্রি করেন, তিনি শুধু আমদানি করেন না, অন্যান্য দেশের বাজারে স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র রপ্তানি করেন।

নেটিজেনদের বেশিরভাগ তার গায়কী কন্ঠের জন্য শুধু নয় ইয়োহানির রূপেরও প্রশংসা করেছেন। তার গানের সুর শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে সেই সাথে তার বাঁকা ঠোটের হাসিও। সুরের সাথে সাথে তার এর ভিন্ন ধরনের আকর্ষনীয় রূপের জা’দুও গানটিকে মানুষের নিকট জনপ্রিয় করার জন্যও সাহায্য করেছে।