রাজধানীর কাছের জেলা মানিকগঞ্জের মেয়ে তাহিরা তানভীন শশীর নেপাল দেখা হলো না। শশীর বাবা রেজা মোহাম্মদ জামান পেশায় চিকিৎসক, স্বামী রেজওয়ানুল হকও চিকিৎসক। কিন্তু শশী চেয়েছিলেন আইন ও অপরাধ নিয়ে পড়তে। এই চাওয়া পূরণ করতে তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এরপরও একটি ইচ্ছা অপূর্ণ ছিলো তার। সেই ইচ্ছাও পূরণ হয় ২০১৭ সালে। সেবছর অক্টোবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স করার সুযোগ পান তিনি।
ইচ্ছা পূরণের খুশি তিনি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন ফেসবুক পোস্টে, লিখেন: যে স্বপ্ন দীর্ঘদিন তাড়া করছিলাম তা এখন পূরণ হচ্ছে।
ইচ্ছাপূরণের আনন্দে এবং চিকিৎসক স্বামীর ব্যস্ততা ও নিজের পড়াশোনার ফাঁকে নেপাল ভ্রমণের দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলেন এই দম্পতি। নেপাল যেতে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস ২১১ এর টিকেট কেনে তারা।
যাত্রা শুরুর আগে বিমানবন্দরে বসে পাসপোর্ট ও বিএস২১১ এর টিকেট আর নিজেদের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন শশী। এটাই শশীর তোলা শেষ ছবি।
কারণ নেপালের ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে অবতরণের জন্য দুপুর ২ টার কয়েক মিনিট বেশি সময় ধরে আকাশে চক্কর দিয়ে দিয়ে অবতরণ করতে যাওয়া শশীদের বহনকারী ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়ে ২ টা ২০ মিনিটের দিকে। বিমল আনন্দের বদলে নেমে আসে বিভীষিকা।
এরপর গণমাধ্যমে নিহতদের খবর আসতে থাকে। মানিকগঞ্জে শশীর বাবা দুর্ঘটনার খবর জানলেও জানতেন না মেয়ে আর ফিরবে না। মেয়ে ও মেয়ের জামাই বেঁচে যাওয়া সৌভাগ্যবান যাত্রীদের মধ্যে আছে এই আশা করছিলেন মনে প্রাণে।
সন্ধ্যায় শশীর বাবাকে মোবাইলফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেন, প্রবল কান্নায় প্রায় বন্ধ হয়ে আসা কণ্ঠে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: মেয়েটার খবর এখনো শুনি নাই, কোন খবর পাচ্ছি না। আপনারা কিছু জানলে জানান, দোয়া করেন, দোয়া করেন।
নেপালের হাসপাতালের সূত্র, কূটনৈতিক বিবৃতির বরাতে নিহতদের নাম পরিচয় আসছিলো তখনো। সম্প্রতি সাইকেল চালিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণ করা নেপালি অজিত বরালের সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ করে তাকে শশীর ব্যাপারে খোঁজ নিতে অনুরোধ জানায় চ্যানেল আই অনলাইন এর এই প্রতিবেদক।
এই অনুরোধের জবাব আসে ৭ টা ৫৫ মিনিটে, মেসেঞ্জারে। অজিত জানতে চান,\"শশী কী নাকফুল পরা ছিলো?\"
ফেসবুকে শশীর ছবি দেখে ধারণা করে জবাব দেয়া হয়,\" হ্যাঁ\"। এরপর অজিত একজন নারীর মরদেহের দু\’টি ছবি পাঠান। সেখানে রক্তাক্ত মুখটি শশীর মুখের সঙ্গে মিলে যাচ্ছিলো। তবে আসলেই শশী কিনা তা বুঝতে ফ্লাইট-২১১ এ ওঠার আগে শশীর পরনের পোশাক ও মরদেহের পরনের পোশাক মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় শশী আর নেই।
অজিত জানান, শশীর মরদেহ রাখা হয় কাঠমন্ডু মেডিকেল কলেজে, পরে মরদেহ কাঠমন্ডুর টিচিং হসপিটালে নেয়া হবে বলে।
শশীর আত্মীয়-বন্ধুদের দেয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শশীর স্বামী দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত অবস্থায় ওম হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আছেন।
             

News Page Below Ad