অভিযোগ ছিল বরাবরই ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জল সীমানায় ঢুকে ইলিশ ধরে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এমনি গত জুলাইয়ে বাংলাদেশে ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধ থাকাকালীন সময়েও ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশি জলসীমানায় ঢুকে দেদার্সে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়।
এবার সেই ইলিশ শিকার নিয়ে ঘটলো নিয়ে বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে গোলাগুলি ।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ইলিশ শিকারের সময় এক ভারতীয় জেলেকে আটকের ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় বর্ডার ফোর্স (বিএসএফ) সদস্যদের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদরের বালুঘাট এলাকার পদ্মা ও শাখা বড়াল নদীর মোহনায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এক বিএসএফ সদস্য নিহত এবং অন্য এক সদস্য হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করে স্থানীয়রা জানান, বিএসএফ হতাহতদের নিয়ে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে চলে গেছে। তবে বিজিবি ভারতীয় জেলে চাই মন্ডল ও তার নৌকা আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্ত পেরিয়ে পদ্মানদীতে কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করছিলেন তিন ভারতীয় জেলে। বিজিবি সদস্যরা এদের মধ্যে একজনকে আটক করেন। বাকি দু\\\’জন পালিয়ে যান। পরে, বিএসএফ সদস্যরা এসে আটক জেলেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দু\\\’পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা এনডিটিভি ও বিবিসি বাংলা জানায়, গোলাগুলির ঘটনায় বিএসএফের এক কনস্টেবল নিহত ও আরেক সদস্য আহত হয়েছেন।
অপর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-নিউজের খবরে বলা হয়, নিহত বিএসএফ জ্ওয়ানের নাম বিজয় ভান সিং। তিনি উত্তর প্রদেশের ফিরোজাবাদ জেলার চামারোলি গ্রামের বাসিন্দা। আহত জওয়ানের নাম রাজবীর সিং। তিনি এখন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে মেজর আসিফ বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, \\\’একজন ভারতীয় জেলে বিজিবি\\\’র হাতে আটক রয়েছেন। শুনেছি গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। বিকালে দুই বাহিনীর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক ডাকা হয়েছে। পতাকা বৈঠকের পরই বিস্তারিত বলা যাবে।\\\’





চারঘাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রজনন মৌসুমের জন্য পদ্মায় ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ অবস্থায় জেলেরা যেন পদ্মায় ইলিশ শিকার করতে না পারে, সে জন্য বিজিবি সদস্যদের নিয়ে তারা বৃহস্পতিবার সকালে অভিযানে যান। এসময় তারা দেখেন, পদ্মা-বড়ালের মোহনায় বাংলাদেশ সীমানার অভ্যন্তরে একটি নৌকায় করে তিনজন ইলিশ শিকার করছে।
তিনি আরও বলেন, তারা কাছাকাছি গিয়ে বুঝতে পারেন, ওই জেলেরা ভারতীয়। এসময় তারা ওই জেলেদের আটকের চেষ্টা করেন। এ সময় দুইজন জেলে নৌকা থেকে লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে পালিয়ে যান। ফলে তারা নৌকাসহ একজনকে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় পালিয়ে যাওয়া জেলেরা গিয়ে বিএসএফকে বিষয়টি অবহিত করে। খবর পেয়ে বিএসএফ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেই গালাগালি শুরু করেন। বিজিবি সদস্যরা প্রতিবাদ করলে বিএসএফ সদস্যরা গুলিবর্ষণ করে। তখন আত্মরক্ষার্থে বিজিবির পক্ষ থেকেও পাল্টা গুলিবর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন। পরে তারা একজন ভারতীয় জেলে এবং তার নৌকা আটক করে বিজিবির চারঘাট করিডর সীমান্ত ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন।