ঢাকার মেট্রো রেলের পরীক্ষামূলক যাত্রা সফলভাবে শেষ হয়েছে। এবার ভাড়া নির্ধানের বিষয়টি সামনে এলো। ইতোমধ্যে এই রেলের প্রথামিকভাবে প্রস্তাবিত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। দিয়াবাড়ি হতে মতিঝিল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারন করার যে প্রস্তাব এসেছে সেটা হলো ৪৮ টাকা। দিয়াবাড়ি হতে আগারগাঁও যাওয়ার জন্য প্রতি যাত্রীর সর্বোচ্চ ভাড়া ২৮ টাকা হতে পারে। অন্যদিকে আগারগাঁও হতে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারিত হতে পারে ৮ টাকা। কারওয়ান বাজার হতে মতিঝিল পর্যন্ত সম্ভাব্য ভাড়া নির্ধারন করা হতে পারে ১২ টাকা হতে পারে। সাতজন সদস্যে বিশিষ্ট একটি ভাড়া নির্ধারণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভাড়া কমানো হলেও তা আর বাড়বে না।
মেট্রোরেল আইন, ২০১৫-এর ধারা ১৮ (২) অনুযায়ী এই ভাড়ার হার প্রস্তাব করা হয়। সর্বশেষ এ প্রস্তাবের আলোকে মেট্রো রেলপথ নির্মাণ তদারকি ও পরিচালনাকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। এই প্রস্তাব নিয়েও বৈঠক হয়েছে। কমিটি প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দেখছে। এখন ভাড়ার হার চূড়ান্ত করবে মন্ত্রণালয়।

প্রথম প্রস্তাবিত ভাড়ার হার ধরা হয়েছিল কিলোমিটারে ২ টাকা ৪০ পয়সা। ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির একাধিক কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রথম প্রস্তাবিত হারের চেয়ে চূড়ান্ত ভাড়ার হার বেশি হবে না।

ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক গণমাধ্যমকে জানান, মেট্রো রেলপথে নতুন আনা ট্রেনগুলোর পরীক্ষণ চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রী পরিবহনের ভাড়াও চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, ভাড়ার হার প্রস্তাবনার ক্ষেত্রে মেট্রোরেল নির্মাণে সরকারি খাত ও বৈদেশিক ঋণের মাসিক ও দৈনিক খরচ, মেট্রোরেল পরিচালন ব্যয়, কর্মীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন খাতকে পর্যালোচনা করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। এর সঙ্গে যাত্রী পরিবহনের হিসাবও নিরীক্ষা করে কমিটি।

দেশের পরিবহন খাতে এটি একটি বড় ধরনের স্বপ্ন পূরন। যদিও ট্রেন সার্ভিসটি প্রথমে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং পরে মতিঝিলে চালু করা হবে, যা ২০.১০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করবে। কেউ কল্পনা করতে পারে নি যে সফলভাবে মেট্রোরেল চালু হবে ব্যস্ত শহর ঢাকায়। পরিবহন কতৃপক্ষ আশা করছে এরপর অন্যান্য মহানগরেও এর পুনরাবৃত্তি হবে। আমাদের মতো একটি জনবহুল, দ্রুত নগরায়নের দেশে একটি উঁচু মেট্রো রেলের সুবিধা সত্যিই অকল্পনীয়। এটি কেবল দৈনন্দিন যাতায়াতে ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে না বরং অন্যান্য পরিবহন পরিষেবার উপর চাপ কমিয়ে বিপুল সংখ্যক যাত্রী বহন করবে।