সন্তান ছোটো থাকলে বাবা-মার এক ধরনের চিন্তা থাকে আর বড় হলে থাকে অন্য ধরনের চিন্তা। কারণ সন্তান বড় হতে শুরু করলে ওদের নিজস্ব জগৎ তৈরি হতে থাকে। জেনারেশন গ্যাপের কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে দূরত্ব। কখনও বাবা, মায়েরা সন্তানদের বুঝতে পারেন না, তো কখনও সন্তানরা বাবা-মায়েদের ভুল বোঝেন। তাই সন্তান টিনএজে পৌঁছতেই ওদের বন্ধু হয়ে উঠার চেষ্টা করুন। আর কিভাবে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলবেন সে উপায়গুলো জেনে নিন।
প্রতিদিন কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটান :
প্রতিদিন কিছুটা সময় সন্তানকে দিন। সারা দিন ও কী কী করল, কোথায় গেল, কীভাবে সময় কাটাল - এসব বিষয় জানতে চান। তার বলা কোনো ঘটনার সঙ্গে
নিজের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করতে পারেন। এই সময়টা শুধু আপনাদের থাক। এই সময়ের মাঝে টেলিভিশন বা ফোন যেন অংশ না হয়ে ওঠে।
সন্তানের শখকে শেয়ার করে নিন :
আপনার সন্তানের হবি বা শখ ওর সঙ্গে শেয়ার করে নিন। মিউজিক, পেন্টিং বা যে কোনও কিছু যা আপনার সন্তান উপভোগ করে তা ওর সঙ্গে করুন। কিছুটা সময় যেমন ওকে দেয়া হবে এতে, তেমনই ওর শখকে আপনি গুরুত্ব দিলে সন্তান আপনাকে বন্ধু মনে করবে।
সন্তানকে সংস্পর্শে রাখুন :
টিনএজ বয়সের ছেলে, মেয়েরা নিশ্চয়ই কোলে নেয়া বা বেশি আদর পছন্দ করবে না। কিন্ত এভাবে সন্তানের সংস্পর্শ থেকে দূরে সরে যাবেন না। অন্য কোনো ভাবে ওর কাছাকাছি থাকুন। চুলে আঙুল চালানো বা পিঠে স্নেহের হাত বোলাতে পারেন। কিন্তু বেশিক্ষণ করবেন না। এর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র নিজের উপস্থিতি সন্তানকে বুঝতে দেয়া।
এক সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস :
এখন সকলেই ব্যস্ত। একই বাড়িতে থেকেও সব সময় আমরা একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করি না। যে যার নিজের সময় মতো খেয়ে উঠেন। চেষ্টা করুন যে কোনো একটা সময় সন্তানদের সঙ্গে খেতে বসার। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ বা ডিনার যেটা আপনাদের সুবিধা।
টেকনোলজির ব্যবহার শিখুন :
অনেক সময়ই আমরা নতুন টেকনোলজি শিখতে গা করি না। ফলে সন্তানদের সঙ্গে জেনারেশন তৈরি হয়। সন্তানদের কাছাকাছি থাকতে নিজেকে নতুন টেকনোলজির উপযুক্ত করে তুলুন। দরকার হলে সন্তানের কাছে শিখতে চান। এতে ওদের সময়কার টেকনোলজিকে আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন দেখে সন্তান আপনাকে কাছের মানুষ মনে করবে।

News Page Below Ad