মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয় এবং ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে যারা সামাজিকভাবে আরো উদার দেশে স্থানান্তরিত হতে চান তাদের জন্য মুভহাব নামের একটি ওয়েবসাইট একটি তালিকা তৈরি করেছেন।
তালিকাটি তৈরিতে মুভহাব তিনটি সুচক পর্যালোচনা করে দেখেছে- সামাজিক অগ্রগতি সুচক, পরিবেশ পারফর্মেন্স সুচক এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) লিঙ্গ বৈষম্য রিপোর্ট।
সামাজিক অগ্রগতি সুচকে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রতি সহনশীলতা, সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার সুযোগ প্রভৃতিসহ কয়েকডজন বিষয়ে খতিয়ে দেখা হয়। ডব্লিউইএফ লিঙ্গ বৈষম্য রিপোর্ট থেকে চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। আর পরিবেশ সুচক থেকে দূষণ এবং পুনঃনবায়নের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।
২৫. নামিবিয়া- মৌলিক মানবিক চাহিদা, শিক্ষা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে বিশাল অগ্রগিত সাধন করেছে দেশটি।
২৪. অস্ট্রিয়া- ডব্লিউইএফ এর লিঙ্গ বৈষম্য রিপোর্টে অস্ট্রিয়ার স্থান ৫২তম। তবে পরিবেশ পারফর্মেন্স সুচকে দেশটি সবচেয়ে বেশি ভালো করেছে। সামাজিক অগ্রগতির সুচকে দেশটি ধর্মীয় এবং এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রতি সহনশীলতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে।
২৩. ফিলিপাইন- লিঙ্গ সমতা এবং পরিবেশ প্রতিরক্ষায় দেশটি সবচেয়ে ভালো করছে। আর শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরন এবং সমকামিদের প্রতি উচ্চ মাত্রার সহনশীলতার জন্যও দেশটি সামাজিক অগ্রগতি সুচকে এগিয়ে রয়েছে।
২২. নেদারল্যান্ডস- দেশটি সামাজিক অগ্রগতির সুচকে সবচেয়ে ভালো করেছে।
২১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র- লিঙ্গ সমতা অর্জনে ব্যর্থতা প্রদর্শন (৪৫তম) করলেও সামজিক অগ্রগতির সুচকে বেশ ভালো পারফর্ম করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো করেছে দেশটি।
২০. স্পেন- এই দেশটিও লিঙ্গ সমতা স্থাপনে পিছিয়ে রয়েছে (২৯তম)। তবে বায়ু দূষণমুক্ত হওয়ায় এবং পরিবেশ পারফর্মেন্স রিপোর্টে শীর্ষস্থানে (৬ষ্ঠ) থাকায় এটি প্রথম ২০ এর মধ্যে স্থান পেয়েছে।
১৯, লিথুয়ানিয়া- পরিবেশ উন্নয়ন সুচকে অষ্টম স্থানে থাকা দেশটি জিডিপি দুর্বল হলেও সামাজিক অগ্রগতির সুচকে ব্যক্তিগত অধিকারের ক্ষেত্রে ভালো করছে।
১৮. বেলজিয়াম- লিঙ্গ সমতা সুচকে চতুর্থ অবস্থানে উঠে আসা দেশটির আবাসন অনেক সাশ্রয়ী মূল্যের।
১৭. এস্তোনিয়া- সামাজিক অগ্রগতির সুচকে ব্যক্তিগত অধিকারের ক্ষেত্রে এটি উচ্চ স্কোর করেছে। আর পরিবেশ উন্নয়ন সুচকে ফ্রান্সকে পেছনে ফেলে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে।
১৬. ফ্রান্স- প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে সবচেয়ে ভালো পরফর্মেন্স করেছে ফ্রান্স। ফলে পরিবেশ সুচকে ১০ম অবস্থানে রয়েছে দেশটি। কিন্তু সামাজিক অগ্রগতির সুচকে পেছনে পড়ে রয়েছে (১৮তম)।
১৫. অস্ট্রেলিয়া- লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম স্কোর করেছে দেশটি ৯৪৫তম)। তবে উচ্চ শিক্ষা এবং পরিষ্কার পানিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করায় সামাজিক অগ্রগতি সুচকের শীর্ষ চারের মধ্যে রয়েছে।
১৪. লাটভিয়া- লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো করেছে লাটভিয়া। ফ্রান্সের পরই দেশটির অবস্থান (১৮তম)। দেশটিতে তথ্যে প্রবেশাধিকার অনেক উচ্চমাত্রার।
১৩. জার্মানি- সামাজিক অগ্রগতিতে খুব একটা ভালো করেনি দেশটি। আর পরিবেশ উন্নয়ন সুচকেও পিছিয়ে রয়েছে (৩০তম)। তবে লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে খুবই ভালো করেছে (১৩তম)।
১২. পর্তুগাল- অর্থনীতি দুর্বল হলেও দেশটি পরিবেশ উন্নয়নে বেশ ভালো পারফর্ম করেছে। এছাড়া শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরন এবং সহনশীলতার ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
১১. কানাডা- ট্রাম্পের বিজয়ে অনেক আমেরিকানই কানাডায় পাগি জমাচ্ছেন। দেশটি সামাজিক অগ্রগতির সুচকে সোর পারফর্মেন্স করেছে (২য়)। আর পরিবেশ উন্নয়ন সুচকেও সম্মানজনক অবস্থানে আছে (২৫তম)।
১০. যুক্তরাজ্য- ব্রেক্সিট সত্ত্বেও মোটের ওপর ভালো করেছে যুক্তরাজ্য। ব্যক্তিগত অধিকার, নিরাপত্তা, সহনশীলতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে দেশটি।
৯. আয়ারল্যান্ড- উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো করেছে।
৮. ডেনমার্ক- বিশ্বের শীর্ষ বন্ধুভাবাপন্ন দেশটি সামাজিক অগ্রগতির সুচকেও শীর্ষ দশে রয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে এবং বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করেছে।
৭. সুইজারল্যান্ড- সামাজিক অগ্রগতির সুচকেও শীর্ষে রয়েছে দেশটি (৫ম)।
৬. স্লোভেনিয়া- মাত্র ২০ লাখ মানুষের এই দেশটি পরিবেশ উন্নয়ন মানদণ্ড এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ইস্যুতে একটি পরাশক্তির মতো। তবে লিঙ্গ সমতা অর্জনে দেশটি খুব একটা অগ্রগিত সাধন করতে পারেনি। ২০১৫ সালে সমলিঙ্গের বিয়ে সংক্রান্ত একটি বিল প্রত্যাখ্যান করা হয়।
৫. নিউজিল্যান্ড- সবুজ এবং সুরক্ষিত পরিবেশের দেশ হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ড।
৪. নরেওয়ে- শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধন করেছে দেশটি। সামাজিক অগ্রগতির সুচকেও তালিকার উপরের দিকে আছে।
৩. সুইডেন- দেশটি লিঙ্গ সমতা অর্জনে ১৯৮৮ সালে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে গত সেপ্টেম্বরে। এর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরতদের ৫০ শতাংশই এখন নারী। লিঙ্গ সমতা সুচকেও চতুর্থ অবস্থানে আছে।
২. ফিনল্যান্ড- সামজিক অগ্রগতি সুচকে শীর্ষস্থানে থাকা দেশটি স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা ইস্যুতেও উচ্চ স্কোর করেছে।
১. আইসল্যান্ড- এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে উদার দেশ। এর জনসংখ্যা মাত্র ৩ লাখ ৩০ হাজার। লিঙ্গ সমতা অর্জনেও দেশটি বেশ অগ্রগতি সাধন করেছে। দেশটির মজুরি কাঠামোতে বিশ্বের সবচেয়ে কম বৈষম্য রয়েছে। এটি সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব দেশগুলোরও একটি। এর জ্বালানি চাহিদার ৮৫%-ই আসে পুনঃনবায়নযোগ্য উৎস থেকে।
সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

News Page Below Ad