তৈরি পোশাক প্রস্তুত খাত নিয়ে চলছে নানা জটিলতা যেখানে মালিকেরা তাদের লোকসান লাঘবের জন্য কর্মী ছাটাই শুরু করেছে। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির বর্তমান সভাপতি ড. রুবানা হক যিনি ৪ জুন পোশাক শ্রমিকদের সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে, জুন থেকেই কারখানার শ্রমিক ছাঁটাই আরম্ভ হয়েছে। কিন্তু সুর পাল্টিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সভাপতি ড. রুবানা হক এমন কোনো ঘোষণা দেননি। আজ (শনিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। তবে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪ জুনের দেয়া যে ব্যক্তব্য সেটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, ৬ জুন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রতি বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিজিএমইএ মনে করে, বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত হয়নি।

সংগঠন হিসেবে এ ধরনের ঘোষণা দেয়ার কোনো সুযোগও নেই। বিজিএমইএ সভাপতি কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়া এবং সম্ভাব্য শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে তার গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন

বিজিএমইএ বলছে, পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারগুলো কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে অনেক বড় বড় ক্রেতা দেউলিয়াত্বও বরণ করেছে।

বিজিএমইএ-এর দাবি, চলমান পরিস্থিতিতে প্রকৃতপক্ষে কোনো কারখানাই সামর্থ্যের শতভাগ ব্যবহার করতে পারছে না। ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় কারখানা সচল রেখেছে, এমন ঘটনাও আছে। বড় কারখানাগুলোও ৬০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না।

পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাকি কারখানাগুলো হয় একে একে বন্ধ হয়ে যাবে অথবা কম ক্যাপাসিটিতে (পূর্ণ সামর্থ্য ব্যবহার ছাড়াই) টিকে থাকার চেষ্টা করবে দিন বদলের আশায়। এটাই বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা। আমরা সবাই দেখছি, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতেও কাজ ও শ্রমিক সংখ্যা বিপুলভাবে কমছে। আমরা শিল্প গড়ি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য। আজকের এই বাস্তবতা আমাদের উদ্যোক্তাদের জন্যও নির্মম।

উল্লেখ্য, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক এই দেশে করোনা ভাইরাস মহামারীতে দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। শিল্পটি দ্রুত অর্ডার হারাচ্ছে, এবং লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস এক্সপোর্টারস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার (১.৪ বিলিয়ন ডলার) লোকসান করেছে, যা প্রায় ১.২ মিলিয়ন শ্রমিককে প্রভাবিত করেছে। হক আরও যোগ করে বলেন, বিদেশী ব্র্যান্ড ক্রমবর্ধমান আদেশ বিলম্ব করছে এবং বাতিল করছে।

ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কভিড-১৯ এর সংক্রামন বৃদ্ধির পর থেকে বাংলাদেশি কারখানাগুলি প্রতিদিন প্রায় $১০০ মিলিয়ন হারাচ্ছে।