স্বামী ইমরান শরীফ তার দুই কন্যা সন্তানের জাপানী মাকে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন, তিনি তার দুই মেয়েকে তার নিকট রাখার জন্য একটি আইনি ল’/ড়া’ই করছেন। এবার তিনি তার স্ত্রীর বি’রু/দ্ধে মা’নহা’নিকর তথ্য ফাঁ’স করার জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচ কোটি টাকা চেয়েছেন। ঐ জাপানি মায়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে জানান, ইমরান শরীফের আইনজীবী একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
আইনজীবী বলেন, মা’নহা/নিকর তথ্য প্রকাশের জন্য ৫ কোটি টাকা ক্ষ’তিপূ’রণ চাওয়া হয়েছে। তা না হলে, জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর নোটিশে আইনি প্রতিকারের পরিবর্তে তার বি’রু/দ্ধে মা’/ম’/লা করার হু’ম/কি দেন। এর আগে, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশের বি’রু/দ্ধে আপিলের নো-অর্ডার দিয়েছিলেন, যেখানে জাপানি মা নাকানো এরিকোকে তার দুই মেয়েকে নিয়ে রাতে ঘুমানো এবং অবা’ধে ঘোরাফেরার জন্য হাইকোর্ট অনুমতি দিয়েছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই দিন ঠিক করে আদেশ দেন। এর আগে গত ২২ আগস্ট ওই দুই মেয়েকে বাবার কাছ থেকে নিজেদের হে’/ফা’জতে নেয় পু’/লি’/শের অ’/পরা’/ধ ত’দন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের তেজগাঁওয়ের ভি’কটি’/ম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়।

তারও আগে ১৯ আগস্ট তাদের বাবা শরীফ ইমরানকে এক মাসের জন্য দেশত্যাগে নি’ষে/ধা’জ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই সন্তানকে ৩১ আগস্ট আ’/দা’লতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সঙ্গে তাদের বাবা ও ফুফুকে নিয়ে আসতে বলা হয়। রাজধানীর গুলশান ও আদাবর থা’/নার ওসিকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

এরপর গত ২৩ আগস্ট জাপানি দুই সন্তানকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের ভি’/কটি’/ম সাপোর্ট সেন্টারে উন্নত পরিবেশে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ সময়ের মধ্যে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের মা ও বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাবা মেয়েদের সঙ্গে সময় কা’টাতে পারবেন মর্মে আদেশ দেন আ’দা/লত। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বাবা রাজধানীর যেকোনো একটি উন্নতমানের হোটেলে মেয়েদের রাখার নির্দেশনা চেয়ে গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

এরপর গত ২৬ আগস্ট বাবা-মা একমত হওয়ায় জাপানি দুই সন্তানকে ভি’কটি’ম সাপোর্ট সেন্টারের পরিবর্তে উন্নত হোটেলে রাখার আদেশ দেন হাইকোর্ট। তার পর থেকে মেয়েরা গুলশানের একটি ভাড়া বাসায় থাকছেন। এর আগে গত ১৯ আগস্ট সকালে দুই কন্যাসন্তানকে আ’দালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করেন জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো (৪৬)। রিটে দুই কন্যাসন্তানকে নিজের জি’ম্মায় নেওয়ার নির্দেশনা চান ওই না’রী।

জাপানি মায়ের আইনজীবী শিশির মনির জানান, ২০০৮ সালে জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো ও বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরান (৫৮) জাপানি আইন অনুযায়ী বিয়ে করে টোকিওতে বসবাস শুরু করেন। তাদের ১২ বছরের সংসারে তিন কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তারা তিনজনই টোকিওর চফো সিটিতে অবস্থিত আমেরিকান স্কুল ইন জাপানের শিক্ষার্থী ছিলেন।

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি শরীফ ইমরানের এরিকোর সঙ্গে বিবাহবি’চ্ছে’দ হয়। ২১ জানুয়ারি ইমরান আমেরিকান স্কুল ইন জাপান কর্তৃপক্ষের কাছে তার মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু এতে এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমরানের প্রস্তাব প্র’ত্যা/খ্যান করে। এরপর একদিন জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা স্কুল বাসে বাড়ি ফেরার পথে বাসস্টপ থেকে ইমরান তাদের অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

গত ২৫ জানুয়ারি শরীফ ইমরান তার আইনজীবীর মাধ্যমে এরিকোর কাছ থেকে মেয়েদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের আবেদন করেন। কিন্তু এরিকো ওই আবেদন প্র’ত্যা/খ্যান করে মেয়েদের নিজ জি’/ম্মায় পেতে আ’দেশ চেয়ে গত ২৮ জানুয়ারি টোকিওর পারিবারিক আ’/দা’লতে মা’/ম’/লা করেন। আদালত ৭, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়েদের সঙ্গে এরিকোর সাক্ষাতের অনুমতি দিয়ে আদেশ দেন।

কিন্তু ইমরানকে আ’দালত যে আদেশ দিয়েছিলেন সেটা না মেনে দুই কন্যাকে শুধুমাত্র ১ বার তাদের মায়ের সাথে দেখা করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এরপর গেল ৯ ফেব্রুয়ারি মি’থ্যা তথ্য দিয়ে ইমরান তার দুই মেয়ের জন্য নতুনভাবে পাসপোর্ট নিয়েছিলেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি তার জাপানি স্ত্রীকে না জানিয়ে তার দুই মেয়ে জেসমিন মালিকা এবং লায়লা লিনাকে সাথে নিয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

এরপর গেল ৩১ মে, টোকিওর একটি পারিবারিক আদা’লত এমন রায় দেন যে, তাদের বড় দুই মেয়েকে তাদের মা এরিকোর নিকটা রাখার জন্য হস্তান্তরের আদেশ দেন। যাইহোক এরপর তার দুই মেয়েকে তাদের বাবা বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর তিনি বাংলাদেশের একজন মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবীর সাথে কথা বলেন এবং সেই প্রেক্ষিতে তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন। গেল ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলঙ্কার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন।