শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার এক অনুষ্ঠান চলাকালে ছুরিকাঘাতে আহত হন প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। সিলেটে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। সেই ঘটনার রাতে তার ভাতিজা প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদের ছেলে নুহাশ হুমায়ূন বলেছেন, এই ধরনের হামলায় তারা ভীত নন, তার পরিবারের মানসিক শক্তি অনেক বেশি।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নুহাশ তার এই অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন।

স্ট্যাটাসে নুহাশ লিখেন, ’এ রকম ঘটনা প্রত্যেকের সঙ্গেই ঘটে। আপনি হয়তো প্রতিদিনের মতোই সময় কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটা ফোন বা মেসেজ আসলো এবং জানতে পারলেন যে, আপনার কাছের কেউ অসুস্থ। তখনই আপনাকে হাসপাতালে ছুটতে হলো। সাধারণত এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে। কিন্তু আজকের ঘটনাটা এমন ছিল না। আমার পরিবারের একজনের ওপর হামলা হয়েছিল।

গণমাধ্যমগুলো ব্যস্ত ছিল কীভাবে ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। তারা হামলাটাকে এমনভাবে প্রচার করতে ব্যস্ত ছিল যেন এটা কোনো হলিউডের অ্যাকশন সিনেমা। আমার নিউজফিড ইতোমধ্যেই ভরে উঠেছে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবনা ও প্রার্থনায়।

আমি শুধু চাই, আমার চারপাশের মানুষগুলো এ দেশে নিরাপদ বোধ করুক। কিন্তু বাস্তবতা এমন মনে হচ্ছে না। আমার জন্য এটা রাজনীতি, নৈতিকতা বা আদর্শ নয়, এটা শুধুই আমার পরিবার। আর আমি আপনাদের বলতে চাই, আমার পরিবার প্রচণ্ড শক্ত ও অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণবন্ত।

যদি এই পথে দুঃখ, সহিংসতা এমনকি মৃত্যুও আসে, তবুও আমার পরিবার তবুও পৃথিবীকে বদলানোর প্রয়াস চালিয়ে যাবে।’

৩ মার্চ, শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে হামলার শিকার হন জাফর ইকবাল। সেখানে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দুদিনব্যাপী ’ইইই ফেস্টিভ্যাল-২০১৮’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

হামলার পর জাফর ইকবালকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার খোঁজ নেন ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে হামলাকারীদের ধরার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। রাতেই জাফর ইকবালকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সিএমএইচে আনা হয়।

News Page Below Ad