সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরব।
রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির সহকারী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আয়েশের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হয়। এসময় সৌদি সামরিক হাসপাতালে কয়েকটি বিষয়ে সহায়তার প্রস্তাব দেন সেনাপ্রধান।

সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুয়াইলি, দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ, বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহ আলম চৌধুরী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্য কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল-আয়েশের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সৌদি জোট ’ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজম কোয়ালিশন’ এ যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সেনাপ্রধান ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজম কোয়ালিশন সেন্টারও পরিদর্শন করেন।

সেনাপ্রধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ সদস্যদের সৌদি আরবের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগের বিষয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় দেশটির সামরিক অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়ে সৌদি সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল-আয়েশ অনুরোধ জানান।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার জন্য দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল হক সৌদি সামরিক হাসপাতালে বাংলাদেশের ডাক্তার, হাসপাতাল সহকারী নিয়োগ ও হাসপাতাল ইউনিট স্থাপনের বিষয়ে সহায়তার প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান রাখায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল-আয়েশ সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হককে সন্মানসূচক কিং আব্দুল আজিজ কলার অফ মেডেল পরিয়ে দেন।

এর আগে সেনাপ্রধান সৌদি আরবের রয়্যাল সৌদি ল্যান্ড ফোর্সের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাহাদ বিন আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে দুদেশের সেনাবাহিনীর সদস্যদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে ৩১ জন সৌদি সেনা ক্যাডেট বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, মাইন অপসারণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যৌথ মহড়ার আয়োজনের জন্য বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে আরবি ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌদি আরবের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের শিক্ষা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

News Page Below Ad