গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষকদের উদ্ভাবিত কিট যেটা করোনার অ্যান্টিবডি কিট হিসেবেই পরিচিত তার কার্যকারিতা পরীক্ষার প্রতিবেদনটি চলমান সপ্তাহে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে জমা দেবার কথা থাকলেও, এখনও পরীক্ষার যে পদ্ধতি তা পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেনি শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা বিভাগ। যার কারনে চলমান সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে না বলে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহে সোমবার (১৫ জুন) বা মঙ্গলবার (১৬ জুন) নাগাদ প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তারা। করোনা কিটের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও লেগে যেতে কিছুদিন বলে ধারনা করছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
বুধবার (১০ জুন) রাতে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ’আমরা আগে বলেছিলাম, এই সপ্তাহের শেষে অ্যান্টিবডি কিটের পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেবো। বুধবার (১০ জুন) সকালে আমাদের ইনভেস্টিগেটরের সঙ্গে কথা বললাম, গতকাল তাদের পরীক্ষা শেষ হয়েছে বলে তারা আমাকে জানিয়েছে। এখন ডাটা প্রসেসিংয়ের কাজ চলছে। আরও কিছু দিন সময় লাগবে তাদের। আশা করছি, আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবারে রিপোর্ট জমা দিতে পারবো।’

কিটের পরীক্ষার ফলাফল কেমন আসত পারে জানতে চাইলে অধ্যাপক কনক কান্তি বলেন, ’যারা পরীক্ষা করেছেন, তারাও ডাটা প্রসেস করার আগে বলতে পারবেন না। সবেমাত্র ডাটা প্রসেস শুরু হয়েছে। এই কাজ শেষ হলে তখন ফলাফল সম্পর্কে একটা ধারণা করা যেতো।’

জানা গেছে, গণস্বাস্থ্যের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাস শনাক্তের ’জিআর র‌্যাপিড ডট ব্লট’ কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে বিএসএমএমইউ। এই কিটের নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া ক্রুটির কারণে গত ২ জুন পরীক্ষা স্থগিত রাখতে আবেদন করেন এই প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার। একইসঙ্গে আবেদনে বলা হয়েছিল, গণস্বাস্থ্যের আরএনএ বায়োটেক টেকনিকেল টিম এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য নুমনা সংগ্রহের একটি সমন্বিত পদ্ধতি বের করার কাজ করছে। এতে কয়েকদিন সময় লাগবে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক কনক কান্তি বলেন, ’অ্যান্টিজেন্ট কিটের পরীক্ষা গণস্বাস্থ্যের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ আছে। তারা এ বিষয়ে এখনও আমাদের কিছু জানায়নি। এখন আমরা শুধু অ্যান্টিবডি কিটের পরীক্ষা করছি।’

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন করেও ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকারের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হতে চলছে নানা ধরনের টানাপড়েন। অনেক ঝামেলা এবং বিতর্কের পর গত ৩০ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে নির্দেশ দানের পর বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে বা আইসিডিডিআর,বি-তে কিটটির কার্যকারিতা নিরুপনের জন্য পরীক্ষার অনুমিত প্রদান করে। পরবর্তীতে গত ১৩ মে কিটের কার্যকারিতা কতটুকু তা যাচাইয়ের জন্য বিএসএমএমইউতে প্রথম দফায় কিট জমা দেয় গণস্বাস্থ্ সংস্থা। সেই সাথে তারা পরীক্ষা খরচ বাবদ ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকাও সেখানে জমা প্রদান করে। এতকিছুর পরও যখন কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষায় গড়িমসি শুরু হয় তখন হতাশা প্রকাশ করে গণস্বাস্থ্য সংস্থা।