করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে বাদ যায়নি বাংলাদেশও। বাংলাদেশ এখন বেশ খারাপ অবস্থানের দিকে এগুচ্ছে যেটা গত সপ্তাহে সং্ক্রমনের হার লাফিয়ে লাফিয়ে কয়েকগুন হয়ে গেছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব বেড়ে যাবার কারনে সরকার ঘোষিত লকডাউনে বেকার হয়ে পড়ে কয়েক লক্ষ মানুষ যারা কোনোভাবেই কাটাচ্ছেন তাদের জীবন। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যই ঘোষিত হলো বাংলাদেশের বাজেট। ধারনা করা হচ্ছে দেশে কোটির কাছাকাচি মানুষ হয়ে পড়বে বেকার। দেশে ১৪ লাখের কাছাকাচি মানুষ কর্মহীন হয়ে যাবে এরকম সম্ভাবনা ব্যক্ত করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী এডিবি’র সাময়িক হিসাবের তথ্য তুলে ধরে এ আশঙ্কার কথা জানান। এর আগে বেলা ৩টায় অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্য শুরু করেন। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যের বড় অংশ ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে মানুষের কর্মহীন হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি, কলকারখানা বন্ধ থাকা এবং সর্বোপরি ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির থাকায় দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। এডিবির সাময়িক হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা ১৪ লাখে দাঁড়াতে পারে।’

লিখিত বাজেট বক্তব্যে দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ’বাংলাদেশের সামনে জনমিতিক লভ্যাংশের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। এ কারণে শ্রমবাজারে বিপুল কর্মক্ষম জনশক্তির আগমন ঘটছে। কিন্তু একই সময়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে শ্রমিকের চাহিদাও কমে যাচ্ছে।’

এ সময় করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রভাব কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’এই বৃহৎ প্রণোদনা ঘোষণার একটি প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতিসঞ্চারের মাধ্যমে সাময়িক কর্মহীনতা দূরীকরণ। তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতনভাতা দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা ৫ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ তহবিল গঠন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার এবং কুটির শিল্পসহ এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার দুটি আলাদা স্বল্প সুদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা চালু করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত ইডিএফ (এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড)-এর পরিমাণ ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছি এবং এ ঋণের সুদের হার কমিয়েছি। পাশাপাশি, ’প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইনান্স স্কিম’ নামে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করেছি।’

কোভিড-১৯ দ্বারা সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট হওয়া স্বাস্থ্য সঙ্কটে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে এবং দারিদ্র্তার হার হ্রাসে দেশের চূড়ান্ত সাফল্যকে বিপন্ন করেছে। এর পটভূমিতে বার্ষিক বাজেট ঘোষণা শেষ হলো আজ। কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে মারাত্মক সঙ্কীর্ণতার কারণে, লাখ লাখ লোক চরম গতিতে দারিদ্র্যের দিকে নামছে। ব্র্যাকের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত আরেকটি সমীক্ষায় প্রকাশিত হয়েছে যে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ৪৫ দিনের লকডাউন সময়কালে দেশের কৃষকরা ৫৬৫.৩৬ বিলিয়ন টাকা লোকসানের মুখোমুখি হন।