প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আগের সাপ্তাহিক ছুটির দিন বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ছুটির এই নতুন বিষয়টি নতুন যে জাতীয় শিক্ষাক্রম করা হয়েছে সেটির রূপরেখায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই নতুন রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদনও করেছেন।
অধ্যাপক মশিউজ্জামান যিনি এনসিটিবির একজন সদস্য (পাঠ্যক্রম) তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন যে জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখা করা হয়েছে সেখানে স্কুল-কলেজে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি রাখা হয়েছে। এই নতুন শিক্ষাক্রমের যে বাস্তবায়ন সেটা আগামি ২০২৩ সাল থেকে শুরু হবে।

জানা গেছে, সাপ্তাহিক দু’দিনের ছুটির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের আগেও চালু করতে পারে।

পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় দু’দিন ছুটির প্রস্তাব করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন শিক্ষাক্রমের একটি রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি তা অনুমোদন দেন। ওই দিনই শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২২ সালে নতুন শিক্ষাক্রমের পাইলটিং করা হবে। ২০২৩ সাল থেকে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০২০ সালের দিকের যে নতুন পাঠ্যক্রম সংশোধন করার প্রস্তাব করা হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে যে, ছুটি বাড়ানো হলেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসম্পর্কিত যে কার্যক্রম সেটার কোনো ক্ষ’তি হবে না। তাদের পড়াশুনার যে সময় সেটা কমবে না। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটাও বলা হয় যে, এটি শিক্ষার্থীদের উপর যে শারীরিক ও মানসিক চা’প সৃষ্টি হয় সেটা অনেকাংশে কমে যাবে।

এনসিটিবির মতে, বর্তমান সময়ে যে সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটি রয়েছে সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরে ২১৫ দিন ক্লাস চলে। শনিবার দিনটিকে যদি ছুটির দিনে যুক্ত করা হয় তাহলে ক্লাস হবে ১৮৫ দিন।