কথায় আছে প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও প্রচেষ্টা থাকলে অনেক অসাধ্যকেও সাধিত করতে পারে মানুষ, যা পরবর্তী প্রজন্মকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। যুগে যুগে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এমনি কিছু কঠিন কাজকে বাস্তবে রুপান্তরিত করেছেন যা দেশ ও বিদেশে আলোচনার সৃষ্টি করে। তেমনি এক অসাধারণ কীর্তি গড়তে চলেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের ডাব বিক্রেতা হাফিজুর রহমান ।

হাফিজুর রহমান ডাব বিক্রির টাকায় হজ্বে যাচ্ছেন এ বছর। শাহজাদপুর পৌর শহরের মনিরামপুর বাজারের ব্যস্ত সড়কটিতে চলাচলকারীদের নিয়মিত চোখে পরে হাফিজুর রহমানের ডাব বিক্রি করার চিত্র। তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাস্তার পাশে ভ্যানে করে ডাব বিক্রি করে।

আজ শনিবার দুপুরে ডাব খাওয়ার ফাঁকে হঠাৎ তাঁর কাছ থেকে জানা যায়, এবছর পবিত্র হজ্বে যাচ্ছেন হাফিজুর রহমান। জানা যায় সব কিছু ঠিক থাকলে এবছর পবিত্র হজ্ব ফ্লাইটে চড়তে যাচ্ছেন শাহজাদপুরের ডাব বিক্রেতা হাফিজুর রহমান(৬৫)।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শাহজাদপুরের মনিরামপুর বাজারে ডাব বিক্রি করেন হাফিজুর রহমান(৬৫)।এটাই তার উপার্জনের একমাত্র পথ। তাঁর সহায় সম্বল বলতে রয়েছে মাত্র ১০ শতক বসত ভিটা।উল্লেখ্য, হাফিজুর রহমান তার হজ্বে যাওয়া বিষয়ে কারো কাছে একটি পয়সার জন্যেও হাত পাতেননি।

হাফিজুর রহমান উপজেলার শেরখালী গ্রামের আরসোব আলীর ছেলে। তিনি জানান, ৪০ বছর ধরে ডাব বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। শাহজাদপুর ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনি ডাব সংগ্রহ করে শাহজাদপুর মনিরামপুর বাজারে বিক্রি করেন।প্রতিটি ডাব ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি করে থাকেন।

তিন ছেলে সন্তান বিয়ে করে সবাই আলাদা সংসার করছে। স্ত্রীকে নিয়ে হাফিজুর রহমানের বর্তমান সংসার। তিনি আরও জানান, ডাব বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে ৪০০/৫০০ টাকা আয় হয়। এই স্বল্প আয় থেকে দিনে দিনে হজ্বে যাওয়ার জন্য টাকা জমিয়েছেন। ২০ বছর যাবৎ টাকা গুছিয়ে আআল্লহর রহমতে হজ্বে যাওয়ার জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা জমাও দিয়েছেন । হজ্বে গিয়ে নিজের পরিবার ও দেশবাসীর জন্য দোয়া করতে চান তিনি।

নিয়মিত ডাব ক্রেতা পৌর শহরের দ্বারিয়াপুর গ্রামের বাইতুল মুকাদ্দেস জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব নুরুল আলম জানান, একদিন এই বিক্রেতার কাছ থেকে জানতে পারি যে তিনি হজ্ব গমনের উদ্দেশে ডাব বিক্রি করে টাকা জমাচ্ছেন, সেদিন থেকেই আমি নিয়মিত তার কাছ থেকেই ডাব ক্রয় করি। কখনও তাকে না পেলে ফোন করে জিজ্ঞাসা করে তার কাছে পৌছে ডাব ক্রয় করি। আমি মনে করি তার প্রচেষ্টা সমাজের অনেক মানুষকে হজ্বে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।

বায়তুল্লাহ হজ্ব কাফেলার স্থানীয় মোয়াল্লেম আলহাজ্ব মুফতি মাঃ ইসমাইল হোসেন সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, হাফিজুর রহমান এবছর হজ্বে যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে এবছর হজ্ব ফ্লাইটে উড়ে যাচ্ছেন সুদুর মক্কা মদিনা শহরে।

News Page Below Ad