আমার দাবি কি আপনারা পূরণ করতে পারবেন : ফারদিনের মা

সম্প্রতি বয়েটের ছাত্র ফারদিন নূর পরশ নিখোঁজ হওয়ার তিন পর তার ম/রদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এমন জঘন্য হ/ত্যাকান্ডে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় ওঠে দেশে জুড়ে। এই হ/ত্যাকান্ডের নিন্দা জানিয়ে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে সহপাটিরা। তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন অভিযোগ করেন ফারদিন নূর পরশের মা ফারহানা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, হ/ত্যাকান্ড গুলোর বিচার না হওয়ার কারনে তার সন্তান হারাতে হলো। পূর্বের হ/ত্যাকান্ডের বিচার হলে এমটা ঘটতো না।

নিখোঁজ হওয়ার পর লা/শ উদ্ধার করা বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশের মা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদেরকে তিলে তিলে বড় করেছি। কি করে শেষ হয়ে গেলো সেই ছেলেটা! সরকার তা দেখেনা! আজ খু/ন করবে, কাল মা/মলা হবে, পরশু বেরিয়ে যাবে। এসব কারণে ভবিষ্যতে আরেকটি বাচ্চার সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার মাগরিবের পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে ছেলে ফারদিন নূর পরশের দাফনের আগে কাঁদতে কাঁদতে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তার মা ফারদিনের নানি পাশে ছিলেন।

ফারদিনের মা ফারহানা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, আমার দা/বি কি আপনারা পূ/রণ করতে পারবেন? কত বাচ্চা মা/রা যাচ্ছে, দেখছেন না? শুধু আমার সন্তান, বুয়েটের তো আরেকটা বাচ্চা মা/রা গেছে। কি করলেন সেই সন্তানের জন্য? আমাদের মেধাবী সন্তান বুয়েটে পড়াশোনা শেষ করছে। আমরা তিলে তিলে বাচ্চাদের বড় করেছি। কিভাবে যে বাচ্চা শেষ হয়? সরকার তা দে/খলো না।

ফারদিনের মা আরও বলেন, ওরা আজকে মে/রে ফেলবে, কাল মামলা হবে, পরশু বেরিয়ে যাবে। এসব কারণে ভবিষ্যতে আরেকটি বাচ্চার সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। সেসব বিচার হলে আজ আমার সন্তানদের কিছুই থাকত না। আবরার হ/ত্যার বিচার হলে আজ আমার ছেলেকে হারাতে হতো না। কার এত বড় কলিজা আছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমার কলিজার টুকরা ছেলে চলে গেছে, কারর কিছু আসা যায় না। তারপর আমার বাবা চলে গেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

নিখোঁজের তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের ম/রদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বনানী ঘাট সংলগ্ন লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলের পেছনে শীতলক্ষ্যা নদীতে তার লা/শ ভাসতে দেখা যায়। রাজধানীর রামপুরা থেকে নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

প্রসঙ্গত, ছেলেকে হারিয়ে পাগল প্রায় ফারদিন মা কান্নায় কন্ঠ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন এবং বিচার না হওয়ার সংস্কৃতির কথা বলেন। তিনি বলেন, এমন ঘটনার ঘটার কারন হচ্ছে বিচার না হওয়ার।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *