জানা গেল চাকুরি হারিয়ে কি করছেন সেই শরীফ

সম্প্রতি দুু/র্নীতি বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারনে চাকুরিচ্যুত হন সাবেক(দুদক) কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন। জানা যায় তিনি কর্মরত অবস্থায় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া ও মামলা দেওয়াসহ বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করায় কারনে তাবে চাকুরি হারাতে হয়েছে। যদিও তিনি চাকুরি ফেরে পেতে আইনের আশ্রয় ও প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করেছিলেন কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। চাকুরি হারিয়ে ভাইয়ের দোকান এখন কাজ করছেন শরীফ উদ্দিন জানালেন তার বর্তমান পরিস্থিতির কথা।

চট্টগ্রাম ষোলশহর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি মাঝারি আকারের কনফেকশনারি (দোকান)। ওই দোকানে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ব্যক্তি এক বছর আগে দু/র্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা ছিলেন। রো/হিঙ্গা এনআইডি জালিয়াতি, কক্সবাজারে বড় বড় প্রকল্পের দু/র্নীতিসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য বের করেছিলেন তিনি। দু/র্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছিলেন । রাঘববোয়ালের রো/ষানলে পড়ে চাকরি হারানোর গল্প তো স/বারই জানা। শরীফ উদ্দিন এখন চাকরি না পেয়ে ভাইয়ের দোকান সামলাচ্ছেন।

গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ষোলশর স্টেশনের প্লাটফর্মে গিয়ে শরীফকে দোকানে ব্যস্ত দেখা যায়। কর্মচারীরা খরিদ্দারদের সামাল দিচ্ছেন সেদিকে নজর রেখে রাখছেন। আবার পণ্যের দাম নেওয়া, টাকার হিসাব রাখছেন।

কেমন আছেন জানতে চাইলে আস্তে আস্তে কথা শুরু করেন শরীফ। পরিবারের ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।

শরীফ বলেন, দে/খেন ভাই, আমার স্ত্রী-স/ন্তান আছে। মা অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। আমিও অসুস্থ। গত ৯ মাস ধরে আমার চাকুরি নেই। আমি যদি দু/র্নীতি করতাম তাহলে বসে বসে খেতে পারতাম। বেতন বন্ধ হওয়ার দিন থেকেই সংসারে টা/ন পড়েছে। চাকরির জন্য সবার কাছে গিয়েছি, বিডিজবসে আবেদন করেছি। কিন্তু দুদক সব জায়গায় বলার কারনে, কোথাও চাকরি হয়নি। তাই আমার ভাইয়ের এই দোকানে ক্যাশে বসে সংসার সামাল দিচ্ছি।

শরীফ উদ্দিন দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ে উপ-সহকারী পরিচালক হিসেবে প্রায় সাড়ে তিন ব/ছর কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি রো/হিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার বানানোর জন্য এনআইডি সার্ভার ব্যবহার করে ২০২১ সালের জুন মাসে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন পরিচালক, ৬ জন কর্মী ও আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলার পর ওই বছরের ১৬ জুন তাকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। আট মাস পর তাকে চাকরি থেকে অ/ব্যাহতি দেওয়া হয়।

শরীফ উদ্দিন বলেন, ” আমার কাজে খুশি হয়ে বেশ কয়েকবার শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে যেসব বিষয়ে তদন্তের জন্য দিয়েছেন, সেগুলো আমি তদন্ত করেছি। তারা আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছে। শত বাধা সত্ত্বেও তদন্তে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিয়েছি।

শরীফ ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ই/য়াবা পাচারকারী, রো/হিঙ্গা, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডজনের বেশি মামলা করেছেন। তাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্তের সময় বা মামলা দায়েরের পর আমাকে কখনো বলা হয়নি যে আমার কাজ ভুল ছিল। মামলা করার আগে দুদকের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল, তারাই মামলা করার অনুমতি দিয়েছে।

যেদিন চাকরি হারানোর খবর পান, শরিফ ওয়াশরুমে ঢুকে দেড় ঘণ্টা কাঁদেন। আমি খুব আবেগপ্রবণ ছিলাম, আমি ভেবেছিলাম আমি মা/রা যাব। আমি মনে মনে বললাম, ওহ! দেশের জন্য কাজ করে, এক টাকাও দুর্নীতি না করে আমার চাকরি চলে গেল।

শরীফ বলেন, চাকুরি যাওয়ার আগে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দেন। তিনি বলেন, তারা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘শরীফ, তোমার আর সময় নেই। জেলের ভাত খাইয়ে দেব, চাকরিও খাব।’ শরীফ দাবি করেন, ফেসবুক স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট ঊর্ধ্বতনদের কাছে জানালেও তাতে কোনো লাভ হয়নি।

শরীফ উদ্দিন বলেন, “আমি এখনো চাকরি ফিরে পাবো বলে আশায় আছি। কারণ আমি কোনো অন্যায় করিনি। গত ৯ মাস ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছি। চাকরির জন্য সব জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু কেউ আমাকে চাকরি দেয়নি। এমন অবস্থায় আমার ভাই বললেন, আলাদা দোকানে ক্যাশিয়ার রাখার দরকার কী?তুমি দোকানে সময় দাও।তারপর থেকে দোকানে সময় দিচ্ছি।

প্রসঙ্গত, চাকুরি হারিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় আছেন এমনটাই মন্তব্য করেন সাবেক এই (দুদক)কর্মকর্তা। চাকুরি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *