সুপারস্টার যার নামের ওপর দর্শক সিনেমা হলে ভিড় করে, যেমন শাকিব খান : কাজী হায়াৎ

বাংলা চলচ্চিত্রের আলোচিত নির্মাতা কাজী হায়াৎ। একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি প্রায় আলোচনা আলোচনায় এসে থাকেন। চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে যা জানালেন আলোচিত এই নির্মাতা।

কাজী হায়াৎ তার ৪৩ বছরের চলচ্চিত্র জীবনে ৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। কাজী হায়াৎ পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত।

সবাই স্রোতের জো/য়ারে গা ভাসলেও কাজী হায়াৎ তার বিপরীতে হাঁটেন। তিনি উচিত কথা বলতে পিছু হটেন না, তিনি সমালোচনাকে ভয় পান না।

আজকাল নতুন নায়কদের নামের সাথে কিংবদন্তি ও সু/পারস্টার শব্দটি জুড়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে তিনি খুবই বিরক্ত। এর পেছনের কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্রের মানুষের মধ্যে অশিক্ষা ঢুকেছে।

এ প্রসঙ্গে কাজী হায়াৎ একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আজকাল যার তা/র নামের সাথে সুপারস্টার শব্দটি জুড়ে দে/ওয়া হচ্ছে। যাকে তা/কে কিংবদন্তি বলা হয়। বিশেষ করে টেলিভিশনের উপস্থাপকরা এটা করেন। কিন্তু তারা সুপারস্টারের সংজ্ঞা জানেন? তারা কি জানেন কারা? কিংবদন্তি? আজকাল তারা অনেককে সুপারস্টারকে ডাকে যাদের নাম আমি কখনও শুনিনি। সুপারস্টার মা/নে হলো যার না/মের ওপর দর্শক সি/নেমা হলে ভিড় ক/রে, যেমন শাকিব খান। তার নামেই সিনেমা চলে।

এর জন্য একটি শ্রেণিকে দায়ী করে তিনি আরও বলেন, ‘এক শ্রেণি আছে যারা অভিনেতাদের সন্তুষ্ট রাখতে, তাদের মন তৃপ্ত করার জন্য সুপারস্টার, তারকা বলে। কিন্তু দুটি ছবি দিয়ে কি সুপারস্টার হওয়া যায়? এটা দেখে রাজ্জাক ভাই আমাকে ফোন করে হাসতেন আর দুঃখ করতেন। তিনি বললেন, হায়াত, কী হচ্ছে? বলতাম, অশিক্ষার ফল। নিরক্ষরতা ফিল্ম মানুষের মধ্যে ঢুকে গেছে। এই অশিক্ষা-কুশিক্ষাই চলচ্চিত্রকে ধ্বং/স করে দিয়েছে।

অবশেষে এই কুসংস্কৃতি নির্মূল করা উচিত বলে মনে করেন এই গুণী নির্মাতা। এজন্য সচেতন শ্রেণীকে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রসঙ্গত, চলচ্চিত্রকে আবারও ভালো অবস্থানের ফিরাতে হলে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে মন্তব্য আলোচিত এই নির্মাতা। তিনি বলেন, শিল্পীদেরসহ সকর সচেতন শ্রেনীর মানুষ চলচ্চিত্রের পাশে দাঁড়ালে আবারও ঐতিহ্য ফিরে পাবে চলচ্চিত্র ইন্ডাষ্ট্রিজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *